মডিউল ৩: মানবতত্ত্ব — মানুষের বিষয়ে ঈশতাত্ত্বিক শিক্ষা (Module 3 - Anthropology: The Doctrine of Man)
মানুষের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা

আসুন একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি: আমরা যা কিছু করি, কেন করি? আমি এখানে সামগ্রিকভাবে বলছি—জীবনের নানা পরিস্থিতি ও অবস্থায়, ছোট বা বড় যেকোনো বিষয়ে, আমাদের কাজের পেছনের প্রেরণা কী? এই প্রশ্নটি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল। কেন? কারণ আমাদের ভেতরে বহুস্তরবিশিষ্ট প্রেরণা বা উদ্দেশ্য কাজ করে, যা আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। হ্যাঁ, সত্যি যে, বাইরের পরিস্থিতি ও অন্যান্য মানুষ আমাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিই এবং আমাদের সিদ্ধান্ত আমাদের অন্তরের ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য থেকে আসে। অতএব, আমরা যা করি, আমরা সেটাই করি যা আমরা করতে চাই। আর এই “চাওয়াটাই” আসল বিষয়। এই কারণে, আমাদের কাজের পেছনে কারণ খুঁজতে হলে, আমাদের হৃদয় সম্পর্কে কিছু জানতে হবে। যীশু এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, আমাদের কথাবার্তার প্রসঙ্গে: “হৃদয় হইতে যাহা বাহির হয়, তাহাই মুখে উচ্চারিত হয়।” অর্থাৎ, হৃদয়ই আমাদের কথার উৎস। মুখ হল আত্মার জানালা। একজন চিন্তাবিদ সুন্দরভাবে বলেছিলেন: হৃদয়ের মূল বক্তব্য হল বক্তব্যের হৃদয় বা মূল বিষয়। আমাদের ইচ্ছার প্রকাশ হচ্ছে ফল, কিন্তু আমাদের আত্মিক প্রকৃতি হচ্ছে সেই শিকড়—যেখান থেকে আমাদের ইচ্ছাশক্তি উৎসারিত হয়।